আপডেট : ১৭ মার্চ, ২০১৯ ১০:৫৫

ডাকসু নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ডাকসু নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ প্রজন্মের মেধাকে কাজে লাগিয়ে তাঁর সরকার দেশকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় উল্লেখ করে নবনির্বাচিত ডাকসু নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় সুন্দরভাবে চলুক, আর এজন্য সেখানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তরুণ প্রজন্মের মেধা ও মননকে আমাদের উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করতে চাই, তাঁদের চিন্তা-ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই।’
ডাকসু’র সহসভাপতি নুরুল হক নূর (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রব্বানী ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক চৌধুরী শোভন এবং হল সংসদের ১৮ জন সহসভাপতি বক্তৃতা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সংগঠনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জিৎ চন্দ্র দাস স্বাগত বক্তৃতা করেন।

স্বৈরশাসকরাই দেশের সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা হঠাৎ ক্ষমতা দখল করে চাকচিক্য পোশাক-আশাকের প্রতি এত বেশি নজর দিয়েছে। তাই বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করতে পারেনি। আর সেখানেই তাদের ব্যর্থতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর আমাদের সফলতা হচ্ছে উন্নয়নে একবারে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবনমানে পরিবর্তন এনে দেয়া।
অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীতে পাঠদান কার্যক্রম অনিয়মিত হয়ে যাওয়ার প্রসংগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আর কোন সেশন জট নেই। যেখানে ৬,৭ এবং ৮ বছরের সেশন জট ছিল।’
এই সেশন জট দূর করার জন্য তাঁর সরকারের কঠোর নির্দেশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন. ‘কোন সেশন জট থাকবে না এবং সময় মতো পরীক্ষা দিয়ে সবার কৃতকার্য হওয়া নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘লেখাপড়ার একটা বয়স থাকে এবং তারুণ্যের যে মেধা সেটাকে আমরা দেশের কাজে লাগাতে চাই। সেই মেধাকে আমরা দেশের উন্নয়নের কাজে লাগাতে চাই। মেধা ও মননকে আমরা আরো কার্যকর করতে চাই।’
ভবিষ্যত নেতৃত্ব সৃষ্টিতে ডাকসুকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশে আবার একটা সুস্থ রাজনীতির ধারা ফিরে আসবে।’
শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে সব সময় আমি একটা কথাই বলেছি, যে নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ হয়। এখানে আমি চাইনি কোন বোমা ও গুলির আওয়াজ বা কোন কিছু ঘটুক। ফলে সবাইকেই বলেছি যে, সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কে ভোট পেল, আর কে পেলনা সেটা কোন বড় কথা নয়, আমি চেয়েছি সুষ্ঠু একটা নির্বাচন হোক। ছাত্র-ছাত্রীরা যা চায় তাই হবে।’
নির্বাচনের পরিবেশ যেন বজায় থাকে সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ছাত্রলীগ থেকেও মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভিপি পদে আমাদের সভাপতি জয়লাভ করতে পারেনি। কিন্তু আমি বলেছি তুমি তাঁকে (ভিপি পদে নির্বাচিত) গিয়ে অভিনন্দন জানাবে এবং বলবে তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করবে।’

আপনার মন্তব্য